ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​সিলেবাসে গাইড বই ও কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগে চাপে শিক্ষার্থী-অভিভাবক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-১৯ ১৬:৩২:২২
​সিলেবাসে গাইড বই ও কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগে চাপে শিক্ষার্থী-অভিভাবক ​সিলেবাসে গাইড বই ও কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগে চাপে শিক্ষার্থী-অভিভাবক

নাদিম হায়দার, স্টাফ রিপোর্টার

মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সিলেবাসের সঙ্গে গাইড বই অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং একই সঙ্গে বাড়ছে কোচিং বাণিজ্য। ফলে আর্থিক চাপে পড়ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

সরেজমিনে জানা গেছে, সিরাজদিখান উপজেলার সিরাজদিখান উচ্চ বিদ্যালয়ে সিলেবাসের সঙ্গে ‘আদিল গাইড’ নামের একটি গাইড বই যুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই গাইড বইয়ে মূল পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি সিলেবাসে প্রশ্নের উত্তর গাইড বইয়ের নির্দিষ্ট পৃষ্ঠায় রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষ করে ইংরেজি গ্রামার ও বাংলা ব্যাকরণে শ্রেণিকক্ষে সরাসরি গাইড বই থেকে পাঠদান করানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে এসব গাইড বই কিনছে বলে অভিযোগ।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নির্দিষ্ট প্রকাশনার গাইড বই বাধ্যতামূলক করলে কিছু শিক্ষক আর্থিক সুবিধা বা ডোনেশন পান, যা বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোতালেব হোসেন মনির বলেন, “সিলেবাসে গাইড বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বরসহ বিষয়টি খেয়াল করা হয়নি। এটি একটি ভুল হয়েছে।”

শিক্ষার্থীরা জানায়, বছরের শুরুতেই ভর্তি ফি, পোশাক ও গাইড বই কিনতে গিয়ে তাদের কয়েক হাজার টাকা ব্যয় হয়। দরিদ্র পরিবারের জন্য এই ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে, ফলে ঝরে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
উপজেলার আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের কাগজে ছাপানো গাইড বই সিলেবাসভুক্ত করা হচ্ছে, যা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। কোথাও শ্রেণিকক্ষেই কোচিং করানো হয়, আবার কোথাও স্কুলের বাইরে বাসা বা ভাড়া করা স্থানে কোচিং পরিচালিত হচ্ছে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “কোচিং না করলে শ্রেণিকক্ষে বৈষম্যের শিকার হতে হয়, এমনকি পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া হয়। অনেক সময় ফেলও করানো হয়। আর যারা কোচিং করে, তারা তুলনামূলক সুবিধা পায়।”

অভিভাবকরা জানান, আগে স্কুলেই ভালোভাবে পাঠদান হতো, কোচিংয়ের প্রয়োজন পড়ত না। কিন্তু এখন সরকারি বিদ্যালয়ে পড়িয়েও উল্লেখযোগ্য খরচ করতে হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি স্কুলের খরচের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ বলেন, “এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বেআইনি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ